চুনারুঘাট প্রতিনিধি : চুনারুঘাটের আহম্মদাবাদে অবাধে লুট করা হচ্ছে মুল্যবান সিলিকা বালু, বালুর গাড়ির সাথে পাচার করা হচ্ছে মাদক, ভারতীয় জিরা, কসমেটিকস সহ অবৈধ বিভিন্নপণ্য।
চুনারুঘাটের আহম্মদাবাদ ইউনিয়নে রাতের আধারে শ্রমিক দিয়ে চা বাগানের ছড়া ও সুতাং নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চা বাগানের ছড়া, শ্রমিকদের বস্তি ও আহম্মদাবাদের কয়েকটি গ্রাম। পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে জনচলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কও।
ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। কিন্তু বালুখেকো চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন তারা।
জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার আমু চা বাগানের পাদদেশ এবং সুতাং নদীর ঘনশ্যামপুর, হারাজুড়া ও কালিশিরি অংশ থেকে শ্রমিক দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে শতশত ঘন ফুট সিলিকা বালু। এসব বালু শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাতে পাচার করা হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুর গাড়িতে মাদক পাচার করে অল্প দিনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠেছে একটি চক্র। বিপরীতে চা বাগান, পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আমু চা বাগানের ছড়া ও সুতাং নদীর অংশ থেকে সিলিকা বালু উত্তোলন করেন ঘনশ্যামপুর গ্রামের জামায়াত নেতা শফিক লস্কক। এবং একি এলাকার সুতাং নদীর হারাজুড়া, কালিশিরি অংশেও চলে তার বালু উত্তোলন। আর এসব বালু ট্রাক ও ট্রাক্টর যোগে পাচার করেন বনগাও গ্রামের নূর ড্রাইভারের ছেলে শাহীন মিয়া ও একটি চক্র।
এছাড়াও শাহীনের নেতৃত্বে খোয়াই নদীর বনগাও মহালের সীমানা বহির্ভূত অংশ থেকে উত্তোলনকৃত চোরাই বালু আমুরোড বাজার সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ভিটায় স্তুপ করে রাখা হয়। পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এমনকি এই চোরাই বালু বিক্রির সময় মহালের রশিদও দেন শাহীন মিয়া, জানান স্থানীয় এক বাসিন্দা।
আমুবাগান রোডের বাসিন্দা আলমঙ্গীর মহালদার বলেন, সারারাত ট্রাক্টর দিয়ে বালু পাচার করা হয়। এর ফলে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান করলেও বালু লুট কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের আমু চা বাগানের পাদদেশ, সুতাং নদীর ঘনশ্যামপুর, হারাজুড়া ও কালিশিরি অংশ থেকে বালু উত্তোলন করে স্তুপ করে রাখা হয়েছে নিশান অফিস সংলগ্ন একটি অংশে। উত্তোলন করা এসব বালু রাতের আঁধারে পাচার করা হচ্ছে মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ডিপু ও চুনারুঘাট উপজেলার কয়েকটি ডিপোতে। সেখান থেকে পাচার করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। বালু পাচারে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক। বালু পাচারের রুট হিসাবে কালিশিরি-বগাডুবি সড়ক, কালিশিরি-আমতলি সড়ক ও আমুবাগান সড়ক ব্যবহার করা হয়।
এ বিষয়ে চুনারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। স্থায়ীভাবে বালু উত্তোলন ও পাচার বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।