মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাব–এর সাংবাদিকরা চরম নির্যাতন, হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একের পর এক হামলা, মিথ্যা মামলা এবং প্রশাসনিক চাপের কারণে সংগঠনটির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনস্বার্থে কাজ করে আসা মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক আজিজুর রহমান জয় বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। অপরদিকে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারাস উদ্দিন (দৈনিক স্বাধীন সংবাদ ও হবিগঞ্জের বানী প্রতিনিধি)–কে মাধবপুর থানা পুলিশ রাতভর থানায় আটকে রেখে হয়রানি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া ক্লাবের সদস্য সাংবাদিক মুজাহিদ মুসি–কে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সহ-সভাপতি ফোরকান উদ্দিন রোমান (দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন, মাধবপুর প্রতিনিধি)–এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ট্যাগ ব্যবহার করে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারও চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন মোড়কেন্দ্রিক প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরাও একই ধরনের নির্যাতন, অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। একাধিকবার লিখিত অভিযোগ, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে অন্যদের সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। অথচ মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের অধিকাংশ সাংবাদিকই জুলাই আন্দোলনে বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন, যা জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত।
এ বিষয়ে মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ফোরকান উদ্দিন রোমান বলেন,“সাংবাদিকরা যদি এভাবে হামলা, মামলা ও বৈষম্যের শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থাটা কী—তা সহজেই অনুমেয়। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায্য বিচার দাবি করছি।”
স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সাংবাদিক নির্যাতনের অবসান, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।