বাহুবল (হবিগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় একজন আওয়ামী পন্থী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) এ খবরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তারা প্রতিবাদে কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অধ্যক্ষ হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর সাদিকুর রহমান।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কলেজটিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালনের জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়। ওই তালিকায় রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ প্রভাবশালী এক শিক্ষকের নাম আলোচনায় আসলে বিষয়টি দ্রুত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য হুমকিস্বরূপ। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান প্রফেসর সাদিকুর রহমান। যদিও সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে প্রস্তাবিত তালিকায় প্রফেসর সাদিকুর রহমানের নাম নেই বলে জানা গেছে, তবুও দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার কারণে অনেকেই তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে মতামত প্রকাশ করছেন।
প্রফেসর সাদিকুর রহমান প্রায় দুই দশক ধরে আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে একজন অভিজ্ঞ ও নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে পরিচিত বলে জানিয়েছেন কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজটি ২০২১ সালে সরকারিকরণ হওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শিক্ষার মান উন্নয়নের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা সেই প্রত্যাশাকে ব্যাহত করছে। তারা দাবি করেন, অবিলম্বে বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে হবে।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা—উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিয়মতান্ত্রিক সমাধান আসবে এবং আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে।