সুমন রানা, কুবি প্রতিনিধি : রাজধানীর বিজয়নগরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর উপর সশস্ত্র হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও তার সুস্থতা কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীরা সমবেত হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়। পরে ওসমান হাদীর দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে শোনা যায়— “তুমি কে আমি কে, হাদি-হাদি”, “হাদি ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে”, “হাদি ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই”, “ইন্টেরিম জবাব দে, জুলাই যোদ্ধা আহত কেন”, “ধিক্কার ধিক্কার, প্রশাসন ধিক্কার”, “ভারতীয় আধিপত্য, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও”, “দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা”।
লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, “এই বাংলার বুকে যে সত্য কথা বলে, তার বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্রকারী শক্তি ঝাঁপিয়ে পড়ে। সরকার ভুলে গেলে চলবে না—তারা শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এক হাদি গেলে হাজার হাদি জন্ম নেবে।”
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সোয়াইব হোসেন আল আমিন বলেন, “আমরা জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থাকে হটিয়েছি। কিন্তু এখনো আমরা নিরাপত্তাহীন। যেখানে হাদি ভাইয়ের মতো একজন মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়, সেখানে সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ—তা প্রশ্নের মুখে। এই বাংলাদেশে হাজার হাদি জন্ম নেবে অন্যায় ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। আমরা মৃত্যুকে ভয় করি না, কারণ ৫ আগস্টেই আমরা মৃত্যুকে জয় করেছি।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছে। ওসমান হাদী ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। আবরার ফাহাদের মতো তাকেও নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।”
ইনকিলাব মঞ্চ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. হান্নান রাহিম বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকেই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ভারত বারবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর যখন তারা বুঝেছে আর কোনো সুযোগ নেই, তখনই দেশপ্রেমিক কণ্ঠগুলোকে বেছে বেছে হামলার শিকার করা হচ্ছে। পূর্ববর্তী হামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়াতেই আজ হাদি ভাইয়ের মতো ঘটনা ঘটেছে। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
উল্লেখ্য, শুক্রবার বেলা ২টা ২৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।