1. live@dainikkholachokh.com : দৈনিক খোলা চোখ : দৈনিক খোলা চোখ
  2. info@www.dainikkholachokh.com : দৈনিক খোলা চোখ :
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাহুবলে অবৈধ বালু উত্তোলনে মোবাইল কোর্টের অভিযান: ট্রাক্টর–বালু জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বাহুবলে মিরপুর চৌমুহনী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা নবীগঞ্জে সাংবাদিকের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর–লুটপাটে আহত ৩ নবীগঞ্জে একঝাক যুবকের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান- ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করলেন এমপি পদপ্রার্থী শাহজাহান আলী বাহুবল হাসপাতাল এলাকায় ড্রেনেজ বিপর্যয়ে চরম জনদুর্ভোগ নাঙ্গলকোটে ৭ গুণী লেখককে মরণোত্তর সংবর্ধনা সিলেটে জাতীয় দৈনিক বর্তমান বাংলার বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত বাহুবলে সিলিকা বালু প্রতিরোধে রাতের অভিযানে ইউএনও–এসিল্যান্ড আমতলী চা বাগান কতৃপক্ষের মধ্যরাতে বালু খেকোদের বিরুদ্ধে  সাড়াশি অভিযান  হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের বিদায়: দায়িত্ব পালনে রেখে গেলেন মানবিকতা ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের দৃষ্টান্ত

বাহুবল হাসপাতাল এলাকায় ড্রেনেজ বিপর্যয়ে চরম জনদুর্ভোগ

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৫১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দীর্ঘদিন ধরে চলা ড্রেনেজ সমস্যায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, স্বজন ও সাধারণ পথচারীরা। হাসপাতালের প্রধান গেইট সংলগ্ন এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য পানি শুধু দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীরা অভিযোগ করছেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদেরকে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পানি পেরিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে হয়, যা নতুন রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার এই বিপর্যয় নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ চরমে। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকা, ড্রেন না পরিষ্কার হওয়া এবং সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—এ সমস্যা অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি নাকি দায়িত্বহীনতার ফল? তদন্তে জানা গেছে, ড্রেনেজ লাইনটি বহুদিন ধরে কার্যক্ষম নেই। নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় বর্জ্য পানি রাস্তায় উঠে এসে হাঁটাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, ড্রেন পরিষ্কারের কোনো নিয়মিত তদারকি নেই এবং মাসের পর মাস ড্রেন পড়ে থাকে। এতে দুর্গন্ধে দোকানপাটে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ড্রেনেজ লাইনটি পুরনো ও সরু হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারছে না। নতুন সংযোগ যুক্ত হওয়ায় সমস্যাও বেড়েছে, কিন্তু সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এখনো পাওয়া যায়নি। এতে প্রশ্ন উঠছে, বরাদ্দ না থাকলে কেন দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।

হাসপাতাল এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বৃষ্টির দিনে তো বটেই, শুকনো মৌসুমেও মেইন গেইট দিয়ে ময়লা পানি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। একাধিক রোগীর অভিযোগ, নোংরা পানি পেরিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে হয়, আর ভেতরেও গন্ধে থাকা যায় না। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, এ পরিস্থিতিতে ডায়রিয়া, সংক্রমণ ও মশাবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ড্রেনেজ সংস্কারে কোনো অগ্রগতি নেই, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার তদারকি নেই এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, হাসপাতাল এলাকার কাজগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন হলেও বারবার অনুরোধের পরও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রেনেজ সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের আগ্রহ কম। পরিকল্পনার ঘাটতি, কাজ শুরু হলেও শেষ না হওয়া এবং বছরের পর বছর অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণের কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে, এখানে নতুন দুর্ভোগ সৃষ্টি করার জন্য নয়। এই পরিস্থিতি প্রশাসনিক অযোগ্যতারই প্রমাণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য পানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পুরো এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগীরা এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। স্থানীয়দের দাবি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য উপজেলা প্রশাসন দ্রুত উদ্যোগ নিক। প্রশাসন চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যেই এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব—প্রয়োজন শুধু সঠিক তদারকি ও কার্যকর ইচ্ছাশক্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট